Skip to main content

ইতিহাসে প্রথম! কোনও ভক্ত সমাগম ছাড়াই রথে চেপে যাত্রা শুরু জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার

“দুটি রথের মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধান রাখতে হবে। রথ টানতে নিযুক্ত যারা প্রত্যেককে রথযাত্রার আগে, চলাকালীন ও পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে,” বিস্তারিত বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

ইতিহাসে প্রথম! কোনও ভক্ত সমাগম ছাড়াই রথে চেপে যাত্রা শুরু জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার


ভারতে করোনাভাইরাস মহামারীর বাড়তে থাকা সংক্রমণের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ওড়িশাকে সাত দিনের রথযাত্রা উত্সবকে সীমিতভাবে উদযাপনের অনুমতি দেওয়ার একদিনের পরেই ঐতিহাসিক বদলের সাক্ষী রইল এই ধর্মীয় উৎসব। এই প্রথম ভক্তবিহীন জগন্নাথ মন্দিরে বিপুল সংখ্যক পুরোহিত পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রার আয়োজন করলেন।রথযাত্রার নানা ভিডিওতে দেখা গয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া পুরোহিতরা বলভদ্রের প্রতিমাকে একটি রথে তুলছেন- এই বিশেষ উৎসবের জন্য সজ্জিত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে প্রচুর ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে মন্দির চত্বর স্যানিটাইজও করা হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের টুইট করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে কিছু সেবায়েত ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন এবং তালে তালে নেচে অন্যরা প্রতিমাকে রথে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিশাল জনতা প্রতিমাকে রথে তোলার পরে ওই রথকে ঘিরে রেখেছে।

একটি টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ, মঙ্গলবার সকালে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন: “ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রার শুভ উপলক্ষ্যে আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমি কামনা করি ভক্তিতে ভরা এই যাত্রা সুখ, সমৃদ্ধি, শুভ কামনা এবং দেশবাসীর জীবনে স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনুক। জয় জগন্নাথ!”

সুপ্রিম কোর্ট এর আগে এই বছর বিপুল জনপ্রিয় রথযাত্রা উত্সব নিষিদ্ধ করেছিল এবং জানিয়েছিল যে যখনই রথ টানা হবে তখন রাজ্য সরকারকে কার্ফু ঘোষণা করতে হবে। তারপর নতুন আদেশ অনুসারে আদালত জানায় ৫০০-র বেশি মানুষকে রথ টানতে দেওয়া হবে না এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি যারা করোনাভাইরাস নেগেটিভ তারাই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন।

“দুটি রথের মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধান রাখতে হবে। রথ টানতে নিযুক্ত যারা প্রত্যেককে রথযাত্রার আগে, চলাকালীন ও পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে,” বিস্তারিত বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু হওয়া রথযাত্রায় সারা বিশ্ব থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হন। তবে অত্যন্ত সংক্রামক করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত সপ্তাহে উত্সবে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়ে বলেছিল: “মহামারীর সময় এই জাতীয় জমায়েত অনুষ্ঠিত হতে পারে না"।

জগন্নাথকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এবং ওড়িশা সাম্রাজ্যের সার্বভৌম রাজা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পুরী জগন্নাথ মন্দির জগন্নাথের ভূমি হিসাবে পরিচিত, যার আক্ষরিক অর্থে বিশ্বজগতের প্রভু।

রথযাত্রার সময়, জগন্নাথকে তাঁর গর্ভগৃহ থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভক্তরা তাঁকে দেখতে পান। মন্দিরের কর্মকর্তাদের মতে, বলা হয় যে যারা এই উত্সবে অংশ নেন তারা ‘স্বর্গে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেন'।

Comments